• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
টপ নিউজ
৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ, দুদকের হাতে সার্ভেয়ার আটক‘একা জেলে যাব না, এসিল্যান্ডকেও গ্রেপ্তার করুন’—আটকের পর সার্ভেয়ারের দাবি, তদন্তে দুদক ভাণ্ডারিয়ায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসামি গ্রেপ্তার মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, বন্ধ মেট্রোরেলের ৫ স্টেশন ‎বেনাপোল সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি, কম্বল ও প্রসাধনী জব্দ জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী সৈয়দপুরের দুর্গাদহে দুর্গা বিসর্জন উপলক্ষে শাহীন মন্ডলের শুভেচ্ছা বিনিময় আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ : স্পিকার চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী যমুনার ঢেউয়ে আঁকা সৌন্দর্য: পর্যটকের নতুন আকর্ষণ সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ
নোটিশ
Wellcome to our website...জনপ্রিয় বাংলার দিগন্ত টিভিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা প্রতিনিধি হতে আগ্রহী তারা banglardiganta03@gmail.com এ সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জীবন বৃত্তান্ত পাঠান। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো ঘটনা আমাদের জানাতে মেইল করুন banglardiganta03@gmail.com প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৮৬৫-৪৬০০৩০

যমুনার ঢেউয়ে আঁকা সৌন্দর্য: পর্যটকের নতুন আকর্ষণ সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ

আল মাহমুদ নিজেস্ব প্রতিবেদক / ২২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

আল মাহমুদ নিজেস্ব প্রতিবেদক

বাংলার পলল ভূমির বুক চিরে বয়ে চলা প্রমত্তা যমুনার রূপালী জলধারা যেমন জীবন দেয়, তেমনি ক্ষ্যাপাটে বর্ষায় তার করাল গ্রাস কেড়ে নেয় জনপদ, স্বপ্ন আর শত বছরের ইতিহাস। ভাঙা-গড়ার এই চিরন্তন খেলায় যমুনা কখনো রুদ্রাণী, কখনো বা শান্ত-স্নিগ্ধ এক অনন্ত ক্যানভাস। প্রমত্তা যমুনা যখন তার রূপালী ঢেউয়ে আদিম উল্লাসে মেতে ওঠে, তখন তার গর্জনে যেমন থাকে ধ্বংসের সুর, তেমনি তার শান্ত রূপের মাঝে লুকিয়ে থাকে এক অনন্ত কাব্য।এই যমুনার বুকেই মানুষের তৈরি এক অনন্য মহাকাব্য হলো সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ (ক্রসবার-৩)। যেখানে একদা ছিল ভাঙনের নীল বেদনা, আজ সেখানে জল ও স্থলের এক অপূর্ব মিতালি। এটি কেবল একটি পাথুরে বাঁধ নয়, বরং যমুনার বিশালতার বুকে মানুষের এঁকে দেওয়া এক স্বপ্নডানা।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে শোনা যায় যমুনার রুদ্ররূপের গল্প। নব্বইয়ের দশকে যমুনার গ্রাসে সিরাজগঞ্জ শহর যখন অস্তিত্ব সংকটে, তখন শুরু হয় এক অসম লড়াই। নদীকে বেঁধে ফেলার, শহরকে বাঁচানোর লড়াই।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে প্রথম দফায় ব্রিটিশ কারিগরি সহায়তায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই কোম্পানির মাধ্যমে মূল শহর রক্ষা বাঁধটি তৈরি করা হলেও যমুনার করাল গ্রাস সম্পূর্ণ থামানো যায়নি।সেই লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত ও আধুনিক অধ্যায় রচিত হয় ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে। প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’ যখন যমুনার বুক চিরে ১৭৮২ মিটার বা প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ক্রসবার-৩ বাঁধটি নির্মাণ সম্পন্ন করে, তখন কেবল শহরই রক্ষা পায়নি, জন্ম নেয় এক নতুন ইতিহাস। শুরুতে যা ছিল কেবলই নদী শাসনের এক কঠোর প্রযুক্তিগত প্রয়াস, কালের বিবর্তনে তা রূপ নেয় এক পরম সৌন্দর্যের ক্যানভাসে। চীনা প্রকৌশলীদের হাত ধরে যমুনার যৌবনকে ভালোবেসে বেঁধে ফেলার এই কীর্তিই আজ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে “চায়না বাঁধ।বিকেলের সোনাঝরা আলোয় এই বাঁধের পিচঢালা পথে পা রাখলে মনে হবে যেন আপনি নদীর ওপর দিয়ে হেঁটে চলেছেন কোনো এক দূর দিগন্তে। দুই পাশে থৈ থৈ জলরাশি, আর মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া সোজা পথটি যেন এক মায়াবী সুড়ঙ্গ। দূর থেকে দৃশ্যমান যমুনা সেতুর অবয়ব যেন আকাশের গায়ে এক অলৌকিক আলপনা এঁকে দেয়।এখানে বাতাস ফিসফিস করে কথা বলে। গোধূলির আলো যখন যমুনার জলে এসে পড়ে, তখন নদীটি আর নদী থাকে না; হয়ে ওঠে গলানো সোনার এক বিশাল সমুদ্র। ঢেউগুলো যখন বাঁধের পাথুরে গায়ে এসে আছড়ে পড়ে, তখন তৈরি হয় এক চিরন্তন জলতরঙ্গ। স্থানীয়রা একে ভালোবেসে ডাকেন ‘মিনি কক্সবাজার’। নদী আর আকাশের এমন নিবিড় আলিঙ্গন বাংলাদেশের খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।চায়না বাঁধের বুকে প্রকৃতির সাথে প্রযুক্তির মেলবন্ধন কেবল পাথুরে বাঁধেই শেষ হয়নি। যমুনার সাঁ সাঁ হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে বাঁধের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল আকৃতির উইন্ডমিল বা বায়ুকলগুলো।
বাতাসের তালে তালে যখন এই বিশালাকার পাখাগুলো ঘুরতে থাকে, তখন এক অদ্ভুত যান্ত্রিক ছন্দ তৈরি হয়।
এটি দেশের অন্যতম সবুজ বিদ্যুৎ শক্তির চাক্ষুষ উদাহরণ। বিকেলের আলোয় ঘূর্ণায়মান এই পাখাগুলোর নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা বা যমুনার বুকে সবুজ শক্তির এই রূপ দেখা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য বাড়তি পাওনা।চায়না বাঁধের রূপ একেক ঋতুতে একেক রকম মোহময়ী রূপ ধারণ করে। বর্ষা শেষ হতেই যমুনার বুকে যখন জেগে ওঠে মাইলের পর মাইল বালুচর, তখন চরের বুক জুড়ে ডানা মেলে শুভ্র সাদা কাশফুল। নীল আকাশে সাদা মেঘ আর নিচে যমুনার পাড়ে সাদা কাশবনের এই রাজ্য পুরো এলাকাকে এক রূপকথার দেশে পরিণত করে। আবার বর্ষাকালে যখন যমুনা তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়, তখন চরের বালি ঢাকা পড়ে যায় অথৈ নীল জলরাশিতে। বাঁধের ওপর দাঁড়ালে তখন মনে হবে আপনি কোনো সাগরের বুকে ভাসছেন, যেখানে চারদিকে শুধু পানি আর পানি!বাঁধের শেষ প্রান্তে গেলেই কানে আসবে যমুনার জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের হাঁকডাক। সারি সারি বাঁধা থাকে ছোট-বড় কাঠের নৌকা আর স্পিডবোট। মন চাইলে খুব অল্প খরচে যমুনার বুকে নৌভ্রমণে ভেসে যাওয়া যায়। মাঝনদীতে যখন নৌকা হেলেদুলে চলে, তখন শহরের সব ক্লান্তি নিমেষেই উবে যায়। জল ছুঁয়ে যাওয়া সেই হাওয়া যেন ছুঁয়ে যায় মানুষের আত্মাকে।চায়না বাঁধে আসা পর্যটকদের জন্য আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো এর খুব কাছেই অবস্থিত ‘হার্ট ভিউ পয়েন্ট’। এই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে শান্ত মনে তাকালে দূর দিগন্তে দৃশ্যমান বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন বা গাড়ি চলাচলের দৃশ্য মন কেড়ে নেয়। বিশেষ করে রাতের আঁধারে যখন যমুনা সেতুর ল্যাম্পপোস্টের আলোগুলো জ্বলে ওঠে, তখন তার প্রতিফলন যমুনার বুকে এক মায়াবী আলো-ছায়ার খেলা তৈরি করে, যা কোনো চিত্রশিল্পীর আঁকা ক্যানভাসের চেয়ে কম নয়।বিকেল গড়াতেই চায়না বাঁধের শান্ত রূপ রূপ নেয় এক উৎসবমুখর মেলায়। বাঁধের দুপাশে ফুটপাত জুড়ে বসে হরেক রকমের মুখরোচক খাবারের পসরা। ভাপওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে যমুনার হাওয়া খাওয়া, কিংবা ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি আর ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই-এর স্বাদ নেওয়া এখানকার সান্ধ্যকালীন আড্ডার প্রধান অনুষঙ্গ। একদিকে নদীর কলতান, অন্যদিকে মানুষের গুঞ্জন আর খাবারের সুবাস, সব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত আবহ তৈরি হয়।
চায়না বাঁধ আজ শুধু সিরাজগঞ্জের নয়, পুরো উত্তরবঙ্গের এক টুকরো অহংকার। যমুনার এই শান্ত স্নিগ্ধ রূপ আর মানুষের তৈরি এই স্থাপত্যের মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসেন ক্লান্তি ভুলতে। এটি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতিকে ভালোবেসে যদি সাজানো যায়, তবে ধ্বংসের বুক থেকেও এমন স্বর্গীয় সুন্দর সৃষ্টি করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category