রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিসে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম নামে এক সার্ভেয়ারকে ১ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ৩ নভেম্বর ঘুষের প্রথম কিস্তির টাকা গ্রহণের সময় দুদকের বিশেষ অভিযানে তিনি আটক হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের ২৮২ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারি সংক্রান্ত আবেদনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য ওই ব্যক্তি প্রায় ছয় মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছিলেন না।
পরবর্তীতে সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জমির সীমানা নির্ধারণ ও সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার বিনিময়ে এককালীন ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বিষয়টি নিয়ে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের পরিকল্পিত অভিযানে গত ৩ নভেম্বর প্রথম কিস্তির ১ লাখ টাকা গ্রহণের সময় সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামকে আটক করা হয়।
তবে আটকের পর ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আটক হওয়ার পর সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি এসিল্যান্ড মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশেই টাকা গ্রহণ করেছেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ডকেও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
তার এই বক্তব্যের পর ভূমি অফিসের অভ্যন্তরে কথিত ঘুষ লেনদেনের সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, সার্ভেয়ারের বক্তব্যের পর এসিল্যান্ড মো. আমিনুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে দুদক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষকে সেবা নিতে গিয়ে কেন মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হতে হবে?
সরকারি দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ কতটা গভীরে বিস্তৃত? সার্ভেয়ারের বক্তব্যে উঠে আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভূমিকা কী?
এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।